বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের ডাক

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ।

তারা ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। সেখান থেকে সোমবার (১৩ জুলাই) আন্দোলনে নামা এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়, শাহবাগ, উত্তরা ও মিরপুরসহ কয়েকটি স্থানে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, রংপুর জিলা স্কুলসহ সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সোমবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন, অমানবিক এবং শিক্ষাবান্ধব নীতির পরিপন্থী।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার আগে দেশের বিভিন্ন মহল, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সংগঠন যৌক্তিকভাবে পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিল। এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা স্থগিতের সুপারিশ করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই বাস্তবতা আমলে নেয়নি। এর পরিণতিতে বহু পরীক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের ধারণা, এই ঘটনার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এড়াতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে একটি পরীক্ষার সময়সূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এতে আরও বলা হয়, ‘আজকের ঘটনার পূর্ণ দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের অবিলম্বে পদত্যাগের জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তবে এসব বিজ্ঞপ্তি ও কর্মসূচির ঘোষণায় কোনো পরীক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ কিংবা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেকের সঙ্গে রাতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি থেকে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলায় আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে। তবে দেশের অন্য সব বোর্ডে পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে সব জেলার পরীক্ষা স্থগিতের দাবি উঠলেও তা বাস্তবসম্মত নয়। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। বারবার পরীক্ষা স্থগিত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রমসহ পুরো শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থার কারণে একটি বোর্ডের সমস্যা বিবেচনায় সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও সম্ভব নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025