শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
সুন্দরবন উপকূলীয় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নদীপথে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর তৎপরতায় বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
সাতক্ষীরার নীলডুমুরে ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ পুশইনের চেষ্টা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে সাতক্ষীরার নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহারিয়ার রাজিব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির তৎপরতায় বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা সফল হয়নি।
বিজিবি জানায়, গত ৮ জুন থেকে ১০ জুন ভোর পর্যন্ত সাতক্ষীরার ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকার বিপরীতে ভারতীয় ৭৪ ও ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন ১৮ থেকে ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে নদীপথসহ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করে।
বিজিবি আরও জানায়, পুশইন প্রতিরোধে ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্তবর্তী সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, মোটরসাইকেল ও এটিভির মাধ্যমে নিয়মিত অতিরিক্ত রাত্রিকালীন টহল, সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাঁশি, লাইট ও মেগাফোনসহ বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা।
এ ছাড়া নদীপথে পুশইন ঠেকাতে সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় হাইস্পিড বোটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন সচেতনতামূলক সভাও আয়োজন করা হচ্ছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে সার্বক্ষণিক দুই সেকশনের একটি কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানায় বিজিবি।
নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহারিয়ার রাজিব বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে।
রাতভর নদীপথসহ সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকা বরাবর মাইকিং ও হুইসেল ব্যবহার করে বিএসএফকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সব সময় সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান।