শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
চলতি অর্থবছরের একাদশ এবং বিএনপি সরকারের তৃতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ১৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প।
১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। পরে ১৯৭৫ সালে ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর গত কয়েক দশকে পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যায় এবং এর অনেক শাখা নদী বিলীন হয়ে পড়ে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সরকার গঠনের পর এবার সেই প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজসহ ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন পায়।
পরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, সরকারের অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পুরো প্রকল্প সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। নদীর পানিপ্রবাহ, কৃষি উৎপাদন, নৌপথ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তবে গঙ্গা চুক্তি নবায়নে দুই দেশের যৌথ কমিশন কাজ করছে।
আগামী বাজেট ঘোষণার পরই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে বলেও জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী।