রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
গ্রিস উপকূলে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু: ২১ বাংলাদেশি জীবিত উদ্ধার নেপালের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা গ্রেপ্তার সৌদির বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ১২ মার্কিন সেনা আহত ইরানের প্রেসিডেন্টকে ব্রিফ করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নয়াপল্টনে বিএনপির সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নেত্রকোনায় মজুত ৫৫০০ লিটার ডিজেল জব্দ, দোকানির জরিমানা সরকারি দল নিজেদের মতো করে সংবিধানের ব্যাখ্যা দিচ্ছে: নাহিদ ইসলাম চিত্রায় গোসলে নেমে এক শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাফ নদী থেকে ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

গ্রিস উপকূলে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু: ২১ বাংলাদেশি জীবিত উদ্ধার

উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় ছয় দিন সমুদ্রে থাকার পর মারা গেছেন। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রিক কোস্টগার্ডকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রিক কোস্টগার্ড শুক্রবার গভীর রাতে জানায়, ফ্রনটেক্সের একটি জাহাজ ক্রিট দ্বীপের কাছে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে, যাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন নাবালক রয়েছে।

পরে কোস্টগার্ড এএফপিকে জানায়, বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন।

কোস্টগার্ড জানায়, আহত দুইজনকে ক্রিটের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড জানায়, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়প্রত্যাশীদের জন্য একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।

কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে যাত্রীরা দিক হারিয়ে ফেলেন এবং খাবার ও পানীয় ছাড়া ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকেন।

তারা আরও জানায়, মৃতদের মরদেহ একজন পাচারকারীর নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুইজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে গ্রেফতার করেছে, যাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর, এবং তাদের মানবপাচারকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ এবং অবহেলার কারণে হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, যাত্রাপথে নৌকাটি প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছিল।

খাবার ও পানির অভাবের সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে ২২ জনের মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া দুই পাচারকারীর নির্দেশেই মৃতদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পৌঁছানোর পথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ৫৫৯ জন মারা গেছেন, যেখানে গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২৮৭।

ডিসেম্বরে, ক্রিটের দক্ষিণ-পশ্চিমে পানিতে ডুবতে থাকা একটি নৌকায় ১৭ জন অভিবাসীর মরদেহ পাওয়া যায়।

সেসময় গ্রিক কর্তৃপক্ষ মাত্র দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করে এবং জানায় আরও ১৫ জন ডুবে মারা গেছে।

তাদের মরদেহ আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: এএফপি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025