বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সময়ে দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই অর্থ অবশ্যই ফিরিয়ে আনা হবে। এ ক্ষেত্রে আত্মীয়তা, প্রভাব বা পরিচয়ের কোনো বিবেচনা করা হবে না। শুধু টাকা নয়, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে কেউ রাজকীয় জীবনযাপন করবে—এটা আমরা হতে দেব না। তাদের ঘুম হারাম করে দেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি দেশ গড়ার নির্বাচন। জনগণের প্রবল চাপেই পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ও আন্দোলনের মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
বেকারত্ব প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “বেকাররা ভাতা নয়, কাজ চায়। তাদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্র কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে, ভিক্ষানির্ভর ব্যবস্থা নয়।”
কৃষিখাতে অতীতের দমননীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা ন্যায্য সারের দাবিতে গুলি চালিয়েছে, তারাই এখন ফার্মার্স কার্ডের কথা বলছে।”
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি ভিক্ষাবৃত্তির চেয়েও নিকৃষ্ট।”
শিক্ষাকে রাষ্ট্র গঠনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জাতি গড়তে হলে ভালো শিক্ষা প্রয়োজন। অথচ শিক্ষাকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। একদিকে বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়, অন্যদিকে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে অসৎ লোকদের হাতে বাজেট তুলে দেওয়া হয়। বাজেট কম, আর যা থাকে সেটাও লুট হয়ে যায়—সারা দেশের একই চিত্র।”
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কৃষিতে বিপ্লব ঘটার কথা ছিল। কিন্তু গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল দেওয়া হয়নি। তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। ১১ দল ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোটা ময়মনসিংহে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। কৃষি ও কৃষককে শিল্প ও শিল্পীতে পরিণত করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ আর পুরোনো পচা রাজনীতি চায় না। পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণ দলীয় সরকার নয়, জনগণের সরকার চায়। জনগণের চাপ অত্যন্ত শক্তিশালী—এটা সাগরের উত্তাল ঢেউকেও থামিয়ে দিতে পারে।”
বক্তব্য শেষে তিনি ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার ১১ দলীয় প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির ও সদর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিম।