রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছি। আমরা এ দেশ বিভক্ত চাই না। বাংলার মানুষকে বিভক্ত হতে দেবে না। আমরা বিজয়ী হলে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবো। ঘরে বাইরে নারীদের নিরাপত্তা দেয়া হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সরকারি ইসলামিয়া কলেজ মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতসহ ১০ দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হলে সরকার গঠন করবে এবং দেশের বন্ধ শিল্প কারখানা চালু করা হবে এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ডাকাত, চোর ও দুর্নীতিবাজ সৃষ্টি হতে দেয়া হবে না। তাদের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে। আমাদের প্রথম কাজ হবে শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যবস্থা নেয়া।
একটি দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মা বোনদের ঘর হতে বের দেবেনাসহ নানা রকমের মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। কিন্তু আমরা যদি দেশ পরিচালনার ক্ষমতা পাই তাহলে মায়ের মর্যাদাসহ নারীদের মান উন্নয়ন করা হবে। যারা বড় বড় কথা বলেন, তাদের হাতেই মা বোনরা লাঞ্ছিত হন। আমরা মুখ খুলতে চাই না। যদি খুলতেই হয়, তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। নবীজি সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম প্রত্যেকটি যুদ্ধে মা-বোনদেরকে যোদ্ধা হিসেবে সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। যুদ্ধের চাইতে কঠিন কোনো কাজ আসমানের নিচে, জমিনের উপরে হয় না। সেই কাজে যদি মায়েরা ভূমিকা পালন করতে পারেন। তাহলে সমাজে এমন কোনো কাজ নাই যেখানে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বর্তমান সমাজেও নারীরা কাজ করেন। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বড়ই অভাব। মুসলমান, হিন্দু, গরিব ও ধনী সবার সমান বিচার করা হবে এবং থাকবে না কোন বৈষম্য। দুবৃর্ত্তরা সংশোধন না হলে তাদের আর ক্ষমা করা হবে না। কাউকে টেন্ডারবাজি চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না এবং সকল সরকারি কাজে টেন্ডার হবে ই-টেন্ডার। চুনেপুটি ধরা হবে না, বড় বড় পুটি ধরা হবে।
সবার উদ্দেশ্য জামায়াত আমির বলেন, গণভোটে হ্যাঁ মানে দেশ রক্ষা করা এবং ফ্যাসিবাদের ফিরে আসতে না দেওয়া। এজন্য দেশ রক্ষার্থে তিনি হ্যাঁ ভোট দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, এই সিরাজগঞ্জে এক সময় তাঁত শিল্প ও গাভী পালনে জমজমাট ছিল। এ লাভজনক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। যমুনার ভাঙ্গন রোধে ব্লক বসানোর নামে অর্থ লুট করা হয়েছে। ৫৪ বছরেও যমুনা নদীর ড্রেজিং করা হয়নি এবং ড্রেজিংয়ের নামে অর্থ লুট করা হয়েছে। যে কারণে নদী ভাঙ্গন থামেনি। জামায়াতসহ ১০ দল ক্ষমতায় গেলে এসব লুটপাটের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিরাজগঞ্জে স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। এ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানটি আরো উন্নতি করা হবে।
সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে জামায়াতসহ জোট প্রার্থীদের স্ব স্ব প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ রক্ষার্থে আমাদের কাজ করতে হবে। মহান আল্লাহর রহমতেই দেশ পরিচালনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। এজন্য দলীয় নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর-সদরের একাংশ) আসনের প্রার্থী শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে এ নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত ইসলামীর এ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারী জেনারেল মওলানা আব্দুল হালিম, এ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খান, শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।