শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনে ১৭৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় জোটের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আসন সমঝোতার ঘোষণা অবশেষে সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচনী সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, জোটের প্রধান শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জোটের শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের পর এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে, আসন ভাগাভাগি ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে দিনভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একটানা চলা ওই বৈঠকে জামায়াতসহ ১০টি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

তবে আগের দিনের মতো এই বৈঠকেও চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। আসন সংখ্যা নিয়ে মতভেদের কারণেই শেষ মুহূর্তে তারা জোটের মূল ধারার আলোচনায় অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়, যা রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মগবাজারের ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের।

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খেলাফত আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিটি দলের সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জামায়াতকে ১৭৯টি আসন দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১২১টি আসন অন্যান্য শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। জামায়াতের আসন বাদে এনসিপিকে ৪৭টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে তাদের দাবিকৃত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এ সময় এলডিপি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রতিনিধিরাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। জোটের নেতারা দাবি করেন, ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটের অধীনে অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্বাচনী ময়দানে শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

 

 

তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতায় না আসায় তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা আসনগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025