রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই: জামায়াত আমির

দেশের এনার্জি সেক্টরে এখন হাহাকার চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নাই। সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যরা কথা বললে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে, শুধু কিছু অসৎ চোরচোট্টা মানুষের কারণে আমরা সমস্যায় পড়ে গেছি।’

দেশে বড় যত সিন্ডিকেট তৈরি হয় তার সবগুলোর পেছনে সরকারি দলের হাত থাকে। অতীতের মতো বর্তমানেও এটি সত্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, জ্বালানি হচ্ছে এমন এক জিনিস যা সমাজকে এনার্জি জোগায়। জ্বালানি ছাড়া সমাজের সবকিছু অচল। তিনি বলেন, সংসদে যখন মন্ত্রী, সরকারি দলের সদস্যরা কথা বলেন, তখন মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। অথচ সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।

সংসদে সব আশা বিফলে না গেলেও ভালো কিছু মেলেনি এমন মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু শুক্রবারের ইভেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় বাস্তবতা ভিন্ন।

তিনি বলেন, আমি সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছিলাম, আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের দিতে হবে। আমি বলব না, যে সব আশা বিফলে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে, যেখানে ক্যাশ নেই কিন্তু খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই ‘গোঁজামিল’ দিয়ে দেশ চলতে পারে না। আমাদের উচিত মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সোসাইটি গড়ে তোলা, পলিটোক্রেটিক (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, শুনলাম এখানেও নাকি বিসিবির মতো ‘ক্যু’ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতো মেধাবী মানুষদের সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে? উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত জায়গায় বসানোই সরকারের সার্থকতা। এখানে দল, ধর্ম বা লিঙ্গ দেখার সুযোগ নেই। এই ব্যাড কালচারের কবর রচনা করতে হবে।

কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের বিপর্যয় এমন মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কৃষি বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কৃষির বিপর্যয় ঘটলে গোটা জাতির বিপর্যয় ঘটবে। কোনো বিদেশি ঋণ বা সহায়তা জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না যদি আমাদের কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাফার স্টক তৈরির জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক (মজুত) গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা অল্টারনেট জেনারেশনের দিকে নজর দিতে হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তবে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবো ইনশাল্লাহ।

এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি এটিএম মাহবুব-ই-ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025