শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট (কাপড়ের উচ্ছিষ্টাংশ) ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩), বিএনপির কর্মী রফিক (৪০) এবং স্থানীয় বাসিন্দা আসমাউল হোসেনের ছেলে মাদরাসা ছাত্র ইমরান হোসেন (১১)। ইমরানকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুই আহতকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ মাদরাসা ছাত্র ইমরান হোসেনের বড় বোন ইশা মনি জানান, ইমরান মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়। তার পেটের বাঁ পাশে গুলি লেগেছে। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহরপাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকার বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেডের ঝুট নামাতেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা। এ নিয়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
চাঁদনী হাউজিং এলাকার বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জীবন রক্ষায় সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
মাসুদুর রহমানের পক্ষে বিএনপি নেতা মো. হোসেন খোকা দাবি করেন, কারখানার সামনে আগে থেকেই প্রতিপক্ষ অবস্থান নিয়েছিল। আমরা গেলে হামলা চালানো হয়। আমাকে লক্ষ্য করে হামলা হলে ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়।
জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, কারখানা থেকে বৈধভাবে ঝুট নামানোর কাজ চলছিল। সেখানে হামলা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক নয়, পুরোপুরি ব্যবসায়িক বিরোধ। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।
ফতুল্লা থানা যুবদলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদের বিরুদ্ধে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি পরে ঘটনাস্থলে যান।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন. কোন পক্ষ থেকে গুলি চালানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।