শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

বগুড়া-শেরপুরে ভোট সকালেই এজেন্টদের থেকে জোর করে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নিয়েছে: জামায়াত

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও সকালেই রেজাল্ট শিটে জোর করে তাদের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গত ৪, ৫ ও ৬ তারিখ- এই তিনদিন দুটি আসনে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আমি নিজেই সফর করেছি। ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অনেক কথা আগে শুনেছিলাম, কিন্তু নির্বাচিত সরকারের অধীনে এই নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ হয়, সে দাবি জানিয়েছিলাম। ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্রে যেতে না দেওয়া ও এজেন্টদের ওপর হুমকির কথা শুনে আসছিলাম। আজ সকাল থেকে দেখলাম সেই আশঙ্কাই সত্য হয়েছে।’

তিনটি অনিয়মের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘একটা হচ্ছে যে সকালেই বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসাররা জোর করে আমাদের এজেন্টদের কাছ থেকে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন, যা একেবারে নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থি। নিয়ম হলো ভোটগ্রহণ শেষ হবে, গণনা শেষ হবে, ফলাফল তৈরি হবে, তখন রেজাল্ট শিটে সব প্রার্থীর এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। কিন্তু ভোট চলাকালীন সকালেই বগুড়া-৬ আসনের মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (কেন্দ্র নম্বর ১) আমাদের এজেন্টদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।’

জাল ভোট এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘অন্তত ১২টা পর্যন্ত আমি শেরপুর নির্বাচনি এলাকার অন্তত ১৩টা ভোটকেন্দ্রের নাম বলতে পারি, যেখান থেকে জোর করে এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘শেরপুরে জাল ভোট ঠেকানোর জন্য ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে যখন আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করতে যাওয়া হলো, সেখানে শ্রীবরদী পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ দুলাল এবং পৌর আহ্বায়ক অপুর নেতৃত্বে কেন্দ্রে ঢুকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ওই উপজেলা জামায়াতের যুব কমিটির সভাপতি আমির হামজা রক্তাক্ত হয়েছেন’

গোলাম পরওয়ার জানান, তারা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং অফিসারদের বারবার অনুরোধ করার পরও কোনো প্রতিকার হয়নি। সেখানে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে নিযুক্ত পেটোয়া বাহিনী কেন্দ্রে কেন্দ্রে হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া, নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা এবং তাদের অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে প্রশাসন অসহায়। কোনো এক জায়গা থেকে নির্দেশিত হয়ে তাদের কিছু যেন করার নেই।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেন, ‘যেসব কেন্দ্র থেকে জাল ভোট দিয়ে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং আগে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, সেসব কর্মকর্তার প্রতি আইনগত ব্যবস্থা নিন। ব্যাপক অনিয়ম যেখানে হয়েছে সেখানে আপনি ভোট স্থগিত এবং পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করুন। তা না হলে জনগণ এরকম জোরপূর্বক একটা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন না।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved bijoykantho© 2025