শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে ব্যাডলি কন্সট্রাক্টেড সংবিধান হলো বাহাত্তরের সংবিধান। সবচেয়ে বাজেভাবে লিখিত সংবিধান এটি। ভারতীয়রা দাবি করেছেন এই সংবিধান তারা করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভারতীয়দের দাবি- কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ছিলেন সুব্রত রায় চৌধুরী, তারা এই সংবিধান লিখে দিয়েছেন। ভারতের পক্ষ থেকে এই সংবিধান (বাহাত্তরের সংবিধান) দেওয়া হয়েছে আমাদের।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে ভারতের সংবিধানের মিল রয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আপনি যদি ভারতের সংবিধান আর বাংলাদেশের সংবিধান পড়েন; কিছু জায়গায় আর্টিকেল বাই আর্টিকেল, ওয়ার্ডস বাই ওয়ার্ডস, কমা, সেমিকোলনের মিল খুঁজে পাবেন। শুধু প্রার্থক্য ভারত একটা ফেডারেল স্টেট; তার যে কাঠামোগত পার্থক্য আছে এটার সঙ্গে আমার সংবিধানের পার্থক্য আমরা ফেডারেল না, আমরা ইউনিট স্টেট। এটাই ডিফারেন্স। এছাড়া বাকি সব প্রভিশনের ভিতরে আপনি মিল খুঁজে পাবেন।
তিনি আরও বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানের ক্রাইসিসটা কোথায় এটা খুঁজতে হবে। এটা আসলে কে তৈরি করেছে? আজকে ৫৬ বছর পরেও থার্ড জেনারেশনের ওপরে এই সংবিধান চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সংবিধান গঠনের প্রক্রিয়াটাও সঠিক ছিল না। জনগণের সম্মতি নেওয়া হয়নি। পৃথিবীতে কোথাও জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনোদিন কোনো সংবিধান হয়নি। আমাদেরটা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভারতের কোনো ঘোষণাপত্র নেই। ১৯৪৭ সালে ভারতে কি রক্তাক্ত যুদ্ধ হয়েছে? আমাদের গর্বের জায়গা, আমার একটা রক্তাক্ত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটা দেশ পেয়েছি। আমাদের হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে এই দেশটার জন্য। ভারতও দিয়েছে ১৯০ বছর ধরে, কিন্তু একটা পিরিয়ড ধরে তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়নি। ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধে কোনো ঘোষণাপত্র ছিল না, কিন্তু আমার স্বাধীনতা যুদ্ধে একটা ঘোষণাপত্র ছিল। এজন্যই গাঠনিক প্রক্রিয়ার জায়গাতে বাহাত্তরের সংবিধান সমস্যার।
রাষ্ট্রের চার মূলনীতি নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ঘোষণাপত্রে বলা ছিল যে, এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা তিনটা মূলনীতির ওপরে ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। কিন্তু বাহাত্তরের সংবিধানে নতুন করে চারটা মূলনীতি আনলেন, অথচ এটা আমাদের কারও জানা ছিল না এই চারটা জিনিস কোথা থেকে আসলো! এই মূলনীতি সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইলেকশন ম্যান্ডেটে (ইশতেহারে) ছিল না, আওয়ামী লীগের দলীয় কনস্টিটিউশনে ছিল না, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঘোষণাপত্রে অথবা একাত্তরের কোনো কনভারসেশনেও ছিল না।
হঠাৎ করে ৭২ সালে এই মূলনীতি কোথা থেকে আসলো- এমন প্রশ্ন রেখে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এই চারটা মূলনীতির প্রত্যেকটা মূলনীতি কন্ট্রাডিক্টরি।
তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিব বেঁচে থাকা অবস্থায় চতুর্থ সংশোধনী দিয়ে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে দেন। তারা শুধুমাত্র একটা জাতীয় দল করেন সোভিয়েত ইউনিয়নের মডেলে। আওয়ামী লীগ এমন একটা অভিশপ্ত দল, যে নিজের দলটাকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করে দিয়েছে।