বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুরের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নদীতীরে স্বজনদের আহাজারি বাড়ছে। এছাড়া রাত ৮টার পর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।
বুধবার (২৪ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের থেকে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে বাসে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। ১১ জন যাত্রী সাঁতরে নদী পাড়ে উঠলেও বেশির ভাগ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে উঠতে গেলে হঠাৎ করেই পদ্মায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, ডুবুরী দল এসে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।
নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটিতে অন্তত ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিল। ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নিখোঁজদের স্বজনরা ফেরি ঘাট এলাকার আহাজারি করছেন। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। হামজা আসতে দেরি হওয়ায় নিখোঁজদের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ঘটনাস্থলে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর রশীদ, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।
বেঁচে যাওয়া যাত্রী আইন উদ্দিন বলেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ২টা ১০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ছাড়ে। বাসে আমি, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে ঢাকার সাভার যাচ্ছিলাম। সবাই বেঁচে গেলেও মেয়ে বাসের মধ্যে রয়েছে।
গোয়ালন্দ সরকারী কামরুল ইসলাম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক আওয়াল আনোয়ার বলেন, আমার ছোট বোন আর নেই। লাশ গোয়ালন্দ হাসপাতালে। ভাগনে ও নাতি বাসের ভিতর নদীতে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শরীফুল ইসলাম বলেন, রুপচাঁদ, মর্জিনা ও রেহেনা নামে ৩ জনের হাসপাতালে আনা হয়। এরমধ্যে মর্জিনা ও রেহেনা নামে ২ জন নারী নিহত হয়েছেন।
রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ বলেন, এখন পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটের বাস দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তির জন্য জেলা প্রশাসন রাজবাড়ীর কন্ট্রোল রুমের নম্বর- ০১৭৩৩৩৩৬৪০৯।