বিজয় কণ্ঠ

সকলের কথা সমানভাবে

নেত্রকোনায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ

করোনাকালের সময়কে কাজে লাগিয়ে ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেত্রকোনায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে ড্রাগন ফল। আর এই চাষকে ঘিরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন হাঁস-মুরগি, মাছ, সবজিসহ সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছেন হাফিজা আক্তার নামের এক নারী। এটিকে ঘিরে ওই এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার আটপাড়া উপজেলার মদন সড়কের পাশে গত চার মাস ধরে তৈরি করা এমন একটি নান্দনিক কৃষি খামার অনেকেই আগ্রহ নিয়ে দেখতে যান।

অনেকেই মনে করেন শুধু আয় নয় এমন উদ্যোগে খাদ্য চাহিদার ঘাটতিও পূরণ হবে স্থানীয়ভাবে। আটপাড়ার তলিগাতী ইউনিয়নের টেংগা গ্রামে ৩ একর ২০ শতাংশ জমিতে এএসসি এগ্রো ফার্মটি প্রতিষ্ঠা করেছেন অ্যাডভোকেট হাফিজা আক্তার। গত জানুয়ারি মাস থেকে তিনি শুরু করেছেন ভিয়েতনাম জাতীয় ড্রাগনের চাষ। ১ হাজার ৫০০ খুঁটিতে মোট ৬ হাজার চারা লাগিয়েছেন। এর সঙ্গে সঙ্গে হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, কবুতর পালন করছেন। সেইসঙ্গে পুুকুর খনন করে করছেন দেশীয় মাছ চাষ। পুকুরের চারপাশজুড়ে নারিকেল ৫০টি, কমলা ১০টি, লেবু ৩০টি, পেঁপে গাছসহ বিভিন্ন চারা গাছ লাগানো হয়েছে।

হচ্ছে শাকসবজির চাষও। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রাগন চাষের সহায়ক হিসেবে সমন্বিত খামারে হাঁস ৬০০, কবুতর ৮০ জোড়া, দেশি মুরগি ১০০ জোড়া, ভেড়া ৪টি, ছাগল ১৬টিসহ শতাধিক ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে ফার্মে। এসব কাজে এলাকার দিন মজুর শ্রমিকরা পেয়েছেন কর্মসংস্থান।
 স্থায়ীভাবে ফার্মটিতে পাঁচজন বেতনভুক্ত হয়ে কাজ করলেও আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করছেন। বর্তমানে হাঁসের খামার থেকে প্রতিদিন ৪০০ করে ডিম পাচ্ছেন। যা দিয়ে চলে যাচ্ছে শ্রমিকদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ। এলাকার মানুষজনও এটাকে দেখছেন একটি আয়বর্ধক কর্মকান্ড হিসেবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এফ এম মোবারক আলী জানান, দামি এই ফল শুধু লাভজনকই নয়। এটি একটি ভেষজ ওষুধও বলা চলে। একবার চাষ করতে পারলে ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ফল ধরে।

শুধু ধান চাষ নিয়ে পড়ে না থেকে তিনি কৃষিতে আগানোর জন্য অন্যদের প্রতিও আহ্বান জানান। কৃষিতে শুধু পুরুষরাই এগিয়ে। এবার নারীরাও আসছেন। এতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভিশন পূর্ণ হবে বলে আমি মনে করি। উদ্যোক্তাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে কোনো ধরনের সহায়তা চাইলে ওই উদ্যোক্তাকে আমরা সেই সহযোগিতা করব।